• ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ২২শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

ইবিতে বড় আপুর দিকে তাকানোর কারণে মার খেলেন ছোট ভাইয়েরা

khaskhabarbd24
প্রকাশিত জুন ২৩, ২০২৩

কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) বাসে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর (মেয়ে) দিকে তাকিয়ে জোরে কথা বলায় মারধরের শিকার বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী (ছেলে)।

ঘটনার পর নওরীন নুসরাত নামে ওই সিনিয়র শিক্ষার্থী উল্টো হুমকি দিয়ে বলেছেন, ‘যদি ভুক্তভোগী এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করে তাহলে আমি ওদের নামে যৌন নিপীড়ন সেলে অভিযোগ করবো। এটা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করবো। গত বুধবার (২১ জুন) রাত ৮ টার দিকে ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক এলাকায় মারধরের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি নওরীন নুসরাতের দিকে তাকানোকে কেন্দ্র করে এ ঘটনার সূত্রপাত। জুনিয়র শিক্ষার্থীরা তার দিকে বাজেভাবে তাকাচ্ছিলেন বলে অভিযোগ করেন নুসরাত।
বুধবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে কুষ্টিয়া থেকে ক্যাম্পাসে ফিরছিলেন আইসিটি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিক হাসান ও নোমান এবং একই বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী হিমেল। এ সময় বাসের মধ্যে জোরেশোরে কথা শুরু হওয়ায় পেছন ফিরে তাকান হিমেল।

পেছনে বসা ছিলেন আইন ও ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী নওরীন নুসরাত এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী জিয়ন সরকার।পরে তারা প্রধান ফটকের কাছে এলে পেছনে ফিরে তাকানোকে বেয়াদবি উল্লেখ করে হিমেলের কাছে এর কারণ জানতে চান জিয়ন। এ সময় হিমেলের বিভাগের সিনিয়র আতিক ও নোমান ঘটনাস্থলে এলে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে হিমেল, আতিক ও নোমানকে মারধর করেন জিয়ন, সিয়াম ও তাদের বন্ধুরা।

ভুক্তভোগী হিমেল বলেন, ‘বাসের মধ্যে চেঁচামেচি হচ্ছিল দেখে আমি পেছনে ফিরে তাকাই। আমার তাকানোয় সমস্যা আছে দাবি করে তারা আমাদের মারধর করে। ওরা নোমান ভাইকে যখন মারধর শুরু করে তখন নওরীন আপু তাকে ছেড়ে দিয়ে আতিক ভাইকে মারতে বলেন। আতিক ভাইয়ের সাথে নওরীন আপুর পূর্ব শত্রুতা থাকতে পারে। যে কারণে আমাদের পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়েছে। ’

এ বিষয়ে নওরীন নুসরাত বলেন, ‘বাসে ওঠার সময় আতিক আমার দিকে খুব বাজেভাবে ঘুরে ঘুরে তাকায়। বাসের মধ্যে আমাদের কথা একটু জোরে হওয়ায় জুনিয়র ছেলে (হিমেল) রাগান্বিতভাবে তাকায়। সেখানে থাকা আমার জুনিয়রদের বিষয়টি ভালো লাগেনি। তাই বাস ক্যাম্পাস গেটে থামার পরে ওই ছেলেদের সাথে কথা বলে। এ সময় তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও একপর্যায়ে ধাক্কা ধাক্কি শুরু হয়। নোমান আমার পরিচিত হওয়ায় তার সামনে দাঁড়িয়ে যাই, যাতে ওকে কেউ টাচ না করে। পরে ওরা ক্যাম্পাস গেটে নেমে যায়। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না।

নুসরাত আরও বলেন, ‘তারা যদি এমন অভিযোগ করে তাহলে আমিও তো ওদের নামে যৌন নিপীড়ন সেলে অভিযোগ করতে পারি। এটা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে আমি প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করবো।

অভিযুক্ত জিয়ন সরকার বলেন, ‘আমি শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম যে আপনারা কোন সেশনের।এমন করে তাকাচ্ছেন কেন। আর বাজে ইঙ্গিত করতেছেন কেন? তখন তারা এটা অস্বীকার করেছিল। এ নিয়ে একটু কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কি হয়। পরে তাদের বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়। পরবর্তীতে ক্যাম্পাসে আরাফাত ভাই ও জয় ভাই (শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদক) বিষয়টি মিউচুয়াল করে দেয়।

এ বিষয়ে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি ফয়সাল সিদ্দিকী আরাফাত বলেন, তাদের মধ্যে সিনিয়রের দিকে তাকানোকে কেন্দ্র করে কিছু জুনিয়রকে মারধর করে। পরে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দেই। তবে যৌন নিপীড়নের কোন গুরুতর অভিযোগ সেখানে কেউ করেনি।#