• ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ২২শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

ভ্রমন পিপাসু পর্যটকদের গন্তবে পৌছাতে সহায়ক হবে কুষ্টিয়ার অভ্যন্তরীন সড়কগুলোতে পথ নির্দেশক স্থাপন

khaskhabarbd24
প্রকাশিত এপ্রিল ২, ২০২৪

তারিকুল হক তারিক
দেশের জাতীয় সড়ক ও মহাসড়কে পথ নির্দেশক থাকলেও জেলা ও উপজেলার অভ্যন্তরীন সড়কগুলোতে কোন পথ নির্দেশক না থাকায় অচেনা সাধারণ মানুষ ও দুরের কোন স্থান থেকে আসা আগন্তকদের নানান ভোগান্তি পোহাতে হয়। অচেনা মানুষের এই ভোগান্তি কমাতে এবং কারো সাহায্য ছাড়াই নতুন প্রজন্মের সন্তানরা যাতে নিজ নিজ এলাকা সম্পর্কে ধরনা পাই সেই জন্যে এই প্রথম বারের মতো কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে জেলার ৬টি উপজেলার ৬০টি স্থানে পথ নির্দেশক স্থাপন করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনায় রেখে গত ১৫ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত এসব পথ নির্দেশক স্থাপন করা হয়। কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো: এহেতেশাম রেজা কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদ মোড়ে পথ নির্দেশক স্থাপনের মধ্যদিয়ে এই কর্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
খোজ নিয়ে জানাগেছে, ছয় উপজেলার যে ৬০টি স্থানে পথনির্দেশক গুলো স্থাপন করা হয়েছে তার মধ্যে পিয়ারপুর মোড়,বংশীতলা মোড়,আলামপুর বাজার মোড়,দহকুলা বাজার মোড়,খেজুরতলা মোড়,বোয়ালদাহ মোড় এবং কাবিল মোড়। কুমারখালী উপজেলার হল বাজার মোড়,উপজেলা মোড়,আলাউদ্দিন মোড়,জয়বাংলা মোড় ও পান্টি নওশের মোড়। মিরপুর উপজেলার মশান বাজার মোড়, জিয়া রোড় মোড়,আমলা বাজার মোড়,কাতলামারি মোড়, আমতলা মোড়,নিমতলা মোড়সহ দৌলতপুর উপজেলা,ভেড়ামারা উপজেলা ও খোকসা উপজেলার বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে পথ নির্দেশক স্থাপন করা হয়েছে।
স্থানীয় মানুষজন জানান, এই পথ নির্দেশক স্থাপন করায় মানুষের খুই উপকার হয়েছে। আগে এক এলাকা মানুষ আরেক এাকায় গেলে আসলে বিভিন্ন মানুষের কাছে শুনে শুনে নিদিষ্ট গন্তব্যে যেতেন। এখন আর সেটির প্রয়োজন হচ্ছে না। সদর উপজেলার দহকুলার ব্যবসায়ী নাহিদুল ইসলাম জানান,আমি পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকি ঈদসহ বছরে দুই তিনবার গ্রামে আসি। এলাকার রাস্থা ঘাটের অনেক পরিবর্তন হয়েছে। নিজের এলাকার রাস্তা নিজেই চিনতে পারিনা। এবার দেখলাম পথ নির্দেশক স্থাপন করা হয়েছে। দেখে খুবই ভালো লাগল। নিজ গ্রামের বাইরে কারো সাহায্য ছাড়াই এবার আরো কয়েকটি গ্রামে গেছি পথ নির্দেশকের সাহয্যে। কুমারখালী উপজেলার জয়বাংলা মোড়ের বাসিন্দা কামাল হোসেন বলেন, শহরে থাকা আমার নাতী নাতনীরা গ্রামে আসলে কোন পখ কোন খানে গেছে তা জানতে চাই। এবার ঈদে আসলে আশাকরি তাদের কোন প্রশ্ন থাকবে না। মিরপুর উপজেলার কাতলামারি এলাকার কলেজ ছাত্র সোহেল রানা জানান, আমার শহরের অনেক বন্ধুরা আমাদের বাড়িতে আসতে প্রতিবারই পথ ভুল করে। এবার গত শুক্রবার তাদেরকে ইফতারির দাওয়াত করেছিলাম। পথ নির্দেশকের কারণে তারা এবার কোন ভুল করেনি।
কুষ্টিয়ার জেলার প্রশাসক মো: এহেতেশাম রেজা জানান, বিভিন্ন পর্যটক, নতুন আগন্তক এবং আমরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তর প্রধান এবং কর্মকর্তাগন বিভিন্ন সরকারী কাজে গ্রাম এলাকায় গেলে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়ি। তারপর স্থানীয় মানুষের সাহায্য নিয়ে গন্তব্যে যেতে হয়। এছাড়া সাংস্কৃতিক রাজধানী বলে খ্যাত কুষ্টিয়ায় বহু গুনী জনের জন্মস্থান। সে কারণে এখানে পর্যটকদেরও আনাগোনা বেশি। কেউ যাতে কোন স্থানে যেতে দিকভ্রান্ত না হন সেই বিবেচনা থেকে আমরার দুর্যোগ ব্যবস্থনাপনা ও ত্রান মন্ত্রনালয় হতে গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনাবেক্ষন (টিআর) কর্মসুচীর আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থ দ্বার এসব পথ নির্দেশক স্থাপন করেছি। স্বস্ব এলাকার মানুষ এবং পর্যটকরা এর সুফল ভোগ করছে।#