• ৩০শে মে, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ , ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ , ২২শে জিলকদ, ১৪৪৫ হিজরি

সীমানা দেয়ালে আটকে আছে কুষ্টিয়া চার লেন সড়কের কাজ

khaskhabarbd24
প্রকাশিত আগস্ট ১১, ২০২৩

তারিকুল হক তারিক॥
কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও জেলা জজের বাস ভবনের সিমানা দেয়ালের কারণে আটকে গেছে কুষ্টিয়া শহরের ফোর লেন সড়ক নির্মানের কাজ। পাশাপাশি এক আওয়ামী লীগ নেতার ভাইয়ের দায়ের করার মামলাও জট পাকিয়েছে এই সড়ক নির্মান কাজে। ফোর লেন সড়কের পাশাপাশি উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও দৃষ্টিনন্দন ফুটপাতসহ সৌন্দর্য্য বন্ধন কাজও শেষ করতে পারেনি সড়ক বিভাগ। বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ার পাশাপাশি এই পথে চলাচলকারী সাধারন মানুষ ও যানবাহন চালকদের ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুন। এভাবে শহরের মধ্যে নির্মানাধীন কাজ দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় শহরবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে।
খোজ নিয়ে জানাযায়, ২৮৩ কোটি টাকা ব্যায়ে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদাহ ও কুষ্টিয়া-ঈশ^রদী জাতীয় মহাসড়কের শহরাংশের বটতৈল মোড় থেকে মজমপুর গেট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার এবং মজমপুর গেট থেকে বারখাদা ত্রিমোহনী পর্যন্ত ৫ কেলিামিটার এই ১০ কিলোমিটার সড়ক ফোরলেনে উন্নীতকরণ কাজটি ২০২১ সালে শুরু করা হলেও নিদ্ধারিত সময়ের একবছর পরেও সেটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সুত্র জানায়, কুষ্টিয়া শহরকে যানজট মুক্ত করার পাশাপাশি পথচারিদের চলাচলের জন্য শহরের বটতৈল মোড় থেকে শহরের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু মজমপুর গেট এবং মজমপুর গেট থেকে বারখাদা ত্রিমোহনী পর্যন্ত ১০ কিলোমিটার সড়ক দুই লেন থেকে ফোর লেনে উন্নতিকরণ কাজের জন্য ২০২১ সালে কাজ শুরু করা হয়। বটতৈল থেকে মজমপুর গেট পর্যন্ত ৫ কিলোমিটার কাজের কার্যাদেশ পান জহরুল লিমিটেড আর মজমপুর থেকে ত্রিমহোনী পর্যন্ত কাজ পান স্পেকটা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। গত বছরের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সময় বাড়ানো হয় ডিসেম্বর পর্যন্ত। ডিসেম্বরে কাজ শেষ না হওয়ায় ফের চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত বেড়েছে প্রকল্পটির মেয়াদ। সড়ক ও জনপথ বিভাগের হিসাব মতে এখন পর্যন্ত ৬০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।
শহরের জমপুর এলাকার বাসিন্দারা জানান, মজুমপুর গেট থেকে বারখাদা তিমোহনী অংশে পুলিশ কুষ্টিয়ার সুপারের কার্যালয় ও জেলা জজের বাসভবন এছাড়াও একই সড়কের মঙগলবাড়িয়া এলাকায় গড়াই খালের পাশে সড়কের জায়গা দখল করে কয়েকটি বহুতল ভবন নির্মানের কারনেও ব্যহত হচ্ছে সড়কের কাজ। এসব কারনে নকশা অনুযায়ী কাজ করতে পারছে না সড়ক বিভাগ। প্রভাবশালীরা সড়ক ও জনপথকে ম্যানেজ করে তাদের স্থাপনা ঠিক রাখছে। এসব কারনে ড্রেন ও সড়কের কাজে জটিলতা বাড়ায় দীর্ঘদিন এই ফোর লেন সড়কের কাজ বন্ধ হয়ে পড়ে আছে। সড়ক বিভাগ প্রভাবশালীদের বাড়ি রক্ষা করতে কাজ করলেও পুলিশ লাইনের সিমানা দেয়াল সরাতে সচেষ্ট হচ্ছেন না।সড়ক বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জেলা জজ তার বাসভবনের সিমানা দেয়াল ভাঙগার অনুমুতি দিলেও বাধ সেধেছে পুলিশ সুপারের অফিস। জমিটির মালিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়। আন্ত:মন্ত্রনালয়ের বৈঠকে এর একটি সমাধান হতে পারে বলে জানা গেছে। তবে কবে হবে সেই বৈঠক তা এখনো জানাযায়নি।
অন্যদিকে বটতৈল থেকে মজমপুর গেট এলাকার কাজে বাধা হয়ে দাড়িয়েছে কুষ্টিয়া বিসিক শিল্পনগরীর সামনে ১ কিলোমিটার জমির মালিকানা দাবীর মামলা। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল হকের ভাই মাহাবুল ইসলাম বাদি হয়ে মামলা করেন। মাহাবুল জমিটি নিজের দাবি করে মামলা করলেও কলকাঠি নাড়ছেন আওয়ামী লীগ নেতা রেজাউল হক। সরকারের কাছ থেকে মোটা অঙকের অর্থ হাতিয়ে নিতেই এই মামলা করেন তারা। তবে জমিটি তাদের নয় বলে দাবি করেছেন সড়ক বিভাগ। সড়ক বিভাগ বলছে, জায়গাটি জেলা পরিষদের। আর রেজাউল হক বলছেন জমিটি আমাদের ক্রয়করা সম্পত্তি। যার কারনে আমরা মামলা করেছি। মামলার কারনে ৫ কিলোমিটার সড়কের প্রায় ১ কিলোমিটার অংশের সড়ক ও ড়্রেেনর কাজ এখনো শেষ করা যায়নি। সড়ক বিভাগের গাফিলতি এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও তার পরিবার মামলা তুলে না নেওয়ায় সমাধান হচ্ছে না। এলাকাবাসীর অভিযোগ, প্রভাবশালীদের চাপে এই স্থানে সড়কের অংশ বিশেষ এবং ড্রেন পশ্চিম দিকে চেপে দেয়া হয়েছে। সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক রেজাউল হক বলেন, উচ্চ আদালতে মামলার বিষয়টি নিয়ে সমাধানের জন্য বসা হয়েছিল। কিন্তু সমাধান হয়নি। এদিকে বারবার সময় বাড়ানোর কারণে কাজের গতিও কমে গেছে। সেই সাথে যানবাহন চালকসহ সাধারন মানুষের দুর্ভোগও বেড়ে ঘেছে। এসব জটিলতা কাটিয়ে কবে এই কাজ শেষ হবে এ প্রশ্ন এখন কুষ্টিয়া বাসীর।
কুষ্টিয়া সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, সেলিম আজাদ খান কালের কন্ঠকে বলেন, দুটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের সীমানা দেয়াল ও একটি মামলার কারনে ফোর লেন সড়কের কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। জমি বুঝে না পাওয়ায় ড্রেনের পাশাপাশি সড়কের কাজ শেষ করা যাচ্ছে না। বিষয়গুলো সমাধানের জন্য কাজ চলছে। দ্রত সময়ের মধ্যে সমাধান হলে এ বছরের মধ্যেই কাজ শেষ করা হবে।#